ম্যাচ শেষ হওয়ার আগেই খেলা শেষ করে দিল ভারত!
ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই উত্তেজনা। তবে রবিবার অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে যা ঘটল, তা যেন আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল। ম্যাচ তখনও চলছে, কিন্তু তার আগেই হিসাবের খাতায় নিশ্চিত হয়ে গেল—ভারত পৌঁছে গেছে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে। আর সেই সঙ্গে প্রতিযোগিতা থেকে বিদায় নিতে হল চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানকে।
নেট রান রেটেই শেষ আশা
এই ম্যাচে পাকিস্তানের সামনে লক্ষ্যটা ছিল কার্যত পাহাড়সম। ভারতকে টপকে সেমিফাইনালে উঠতে হলে পাকিস্তানকে ৩৩.৩ ওভারের মধ্যে করতে হত ২৫৩ রান। শুধু ম্যাচ জেতাই নয়, ভারতের বিশাল নেট রান রেটকেও ছাপিয়ে যেতে হত তাদের।
ম্যাচের আগে পরিস্থিতি ছিল এমন—
ভারত: ৩ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট
পাকিস্তান: ৩ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট
পাকিস্তান জিতলে পয়েন্ট সমান হলেও, তখন সিদ্ধান্ত হত নেট রান রেটে। ভারতের নেট রান রেট ছিল ৩.৩৩৭, আর পাকিস্তানের ১.৪৮৪। অর্থাৎ, শুধু জিতলেই চলত না, জিততে হত বড় ব্যবধানে।
ম্যাচ চলাকালীনই নিশ্চিত সেমিফাইনাল
পাকিস্তান ব্যাট করতে নেমে ৩৩.৩ ওভারে তুলতে পারল মাত্র ১৬৭ রান। সেই মুহূর্তেই স্পষ্ট হয়ে গেল—নেট রান রেটের অঙ্কে আর কোনওভাবেই ভারতের কাছে পৌঁছনো সম্ভব নয়। ম্যাচ তখনও শেষ হয়নি, কিন্তু ভারতের সেমিফাইনালে ওঠা নিশ্চিত হয়ে গেল। পাকিস্তানের স্বপ্ন সেখানেই শেষ।
টস জিতে সুযোগ কাজে লাগাতে পারল না ভারত
পাকিস্তানের অধিনায়ক ইউসাফ টস জিতে ফিল্ডিং নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ভারতীয় দলের শুরুটা একেবারেই আশানুরূপ হয়নি।
অ্যারন জর্জ (১৬), বৈভব সূর্যবংশী (৩০), অধিনায়ক আয়ুষ মাত্রে (০), বিহান মলহোত্র (২১) এবং অভিজ্ঞান কুন্ডুরা (১৬)—কেউই বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। মাত্র ৪৭ রানের মধ্যেই ৩ উইকেট পড়ে যাওয়ায় চাপে পড়ে যায় ভারত।
চাপের মধ্যে দায়িত্ব নিলেন বেদান্ত ত্রিবেদী
দলের সেই কঠিন পরিস্থিতিতে একপ্রান্ত আগলে রেখে অসাধারণ ইনিংস খেলেন বেদান্ত ত্রিবেদী। ৯৮ বলে ৬৮ রানের ধৈর্যশীল ইনিংস খেলে ভারতীয় ইনিংসকে ভিত শক্ত করে দেন তিনি।
তাঁর সঙ্গে বিহান মলহোত্রের ৬২ রানের এবং অভিজ্ঞান কুন্ডুরার ৩৮ রানের জুটি কিছুটা স্বস্তি এনে দেয় ভারতীয় শিবিরে।
শেষদিকে লড়াই, সম্মানজনক স্কোর
ইনিংসের শেষ দিকে আরএস অম্বরীশ (২৯), কণিষ্ক চৌহান (৩৫) এবং খিলান পটেল (২১) দ্রুত রান তুলে দলকে সম্মানজনক জায়গায় পৌঁছে দেন। নির্ধারিত ওভার শেষে ভারতের ইনিংস থামে ২৫২ রানে।
ভারত সেমিফাইনালে, পাকিস্তানের বিদায়
এই স্কোরই শেষ পর্যন্ত ভারতের জন্য যথেষ্ট হয়ে ওঠে। পাকিস্তান ব্যাট হাতে নেমে নেট রান রেটের লড়াইয়ে টিকে থাকতে ব্যর্থ হয়। ম্যাচ শেষ হওয়ার আগেই নিশ্চিত হয়ে যায়—ভারত অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে, আর পাকিস্তানের যাত্রা শেষ।
ভারতীয় শিবিরে তখন স্বস্তির হাসি, আর পাকিস্তানের জন্য রয়ে গেল হতাশা।
0 মন্তব্যসমূহ